প্রস্তাবিত নারী উন্নয়ন নীতি বাতিলের দাবিতে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির ডাকা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে। পুলিশি বাধায় মাঠেই নামতে পারছে না পিকেটাররা। সোমবার ঢাকার কয়েকটি স্থানে হরতালের সমর্থনে যা কিছু পিকেটিং দেখা গেছে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে গেছে মুহূর্তেই। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল লতিফ নেজামীসহ শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
হরতালে রাজধানী ঢাকার রাস্তায় যান চলাচল কিছুটা কম হলেও নগরীর জীবনযাত্রায় হরতালের তেমন প্রভাব পড়েনি। মিরপুর, মোহাম্মাদপুর, লালবাগ, শান্তিনগরে হরতালের সমর্থনে মাদ্রাসার ছাত্রদের পিকেটিং করতে দেখা গেছে। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি পুলিশের বাধায়। রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় দোকান-পাট বন্ধ থাকলেও অফিস-আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্ত্রিসভা নারী উন্নয়ন নীতির খসড়া অনুমোদনের পর ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির নামে সোমবার এ হরতালের ডাক দেন ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী।
জানা গেছে, সকাল সাতটার দিকে শান্তিনগরে আল্লা-রসুলের মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্র হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। মিছিলটি পল্টনের দিকে অগ্রসরের চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ ও পিকেটিংকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
হরতালকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশও পাল্টা জবাব দেয় এবং কমপক্ষে ২৫ ছাত্রকে আটক করে। পরে মিছিলটি কর্ণফুলি গার্ডেন সিটির পাশ দিয়ে বেইলি রোডে আসলে পুলিশ আবারও বাধা দেয়। মিছিলে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এবং অন্ত ২৫ জনকে আটক করে।
এ বিষয়ে রমনা থানার ওসি শিবলী নোমান জানান, হরতালের নামে রাস্তায় নেমে একদল মাদ্রাসা ছাত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে।
এদিকে, সকালে পল্টন মোড়ে হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় অন্তত ১০জনকে আটক করা হয়। এছাড়া সকালে মিরপুর ১০ নং গোলচত্বরে পুলিশ হরতালের সমর্থনে মিছিলকারীদের বাধা দেয় এবং কমপক্ষে ৭ জনকে আটক করে।
এছাড়া সোমবার হরতালের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন এতে নেতৃত্ব দেন।
হরতালে নাগরিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটালে তা পুলিশ কঠোরভাবে দমন করবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। সে অনুযায়ী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র্যাব-পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
0 আপনার মতামত:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এমন কোন মন্তব্য করবেন না যা রাজনীতিক বা সামাজিক ভাবে বিতর্কের সৃষ্টি করে।